পিয়ারা গাছের ফলের উপকারীতা ও ঔষুধি গুণাগুণ

 পিয়ারা গাছের ফলের উপকারীতা ও ঔষুধি গুণাগুণ



আমাদোর দেশসহ এশিয়ান দেশগুলোতে পিয়ারা খুব সাধারণ ও সহজলভ্য ফল। পশ্চিমা দেশগুলোতেও এটি পাওয়া যায়। স্বাদ ও গন্ধ ছাড়াও পিয়ারার অনেক গুণাগুণ রয়েছে। শুধূ ফলেই না এর গাছের পাতা ও বাকলেরও রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারীতা । পুষ্টিগুণ পেয়ারায় অনেক বেশি ভিটামিন "সি" ও "এ" রয়েছে । জেনে অবাক হবেন,একটি পেয়াতে সমান আকৃতির একটির কমলার ৪ গুণ এবং একটির লেবুর ১০ গুণ বেশি ভিটামিন "সি" রয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন "বি২,কে,আঁশ,ক্যালসিয়াম,পটাসিয়াম,ফসফরাস,আয়রন,কপার,ফোলেট ও ম্যাঙ্গানিজ। এতে কোনো চর্বি নেই। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রন্ধন পক্রিয়ায় এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। এছাড়া পেয়ারার জুস একটি শক্তিদায়ক পানীয়। স্বাস্থ্য উপকারীতা:
  •  মুখ গহুরের পরিচর্যায়:দাঁতের প্লাক জমা মুখের ভেতরের একটি বড় সমস্যা । পিয়ারা পাতার এন্টিপ্লাক বিশিষ্টের খুব কার্যকর। ভেষজবিদরা মুখ গহুরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য কচি পেয়ারা পাতার পেষ্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। এই পাতার প্রদাহ নাশক,বেদনানাশক,এবং জীবাণূনাশক গুণাগুণের জন্য এটা মাড়ুির প্রদাহ,মারির ফোলা,মাড়ির দূরগন্ধ দূর করতে,দাঁতের ব্যথ্যা ,মুখের ঘা সারাতে বেশ কার্যকর। পিয়ারা গাছের ডাল দাঁতের জন্য মাজন হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন ১-২ টি পিয়ারা পাতা মুখে নিয়ে চিবালে ভালো ফল পাবেন। পিয়ারা পাতা দিয়ে তৈরি করতে পারেন মাউথওয়াশ,৫-৬ টি পিয়ারা পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করে সেই পানি দিয়ে দিনে ১-২ বার কুলি করতে পারেন। 
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে:১৯৯৩ সালে "জার্নাল অফ হিউম্যান হাইপারটেনশান" এ প্রকাশিত হয় যে,নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ ও রক্তের লিপিড কমে,কারণ পেয়ারাতে উচ্চ পটাশিয়াম,ভিটামিন "সি" এবং দ্রব্যনীয় আঁশ থাকে। পটাশিয়াম নিয়মিত হৃদস্পন্দের এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিক রাখে। নিয়মিত লাইকোপিন সমৃদ্ধ গোলপী পেয়ারা খেলে কার্ডওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কমায়। পিয়ারা পাতা ভালো করে শুকিয়ে ভালো করে চা বানিয়ে খেলে সম্পূর্ণ কোলেস্টেরল,খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায়। 
  • ,ডায়রিয়ার চিকিৎসার:পিয়ারা পাতার চা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংঘঠিত ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে। কারণ এটার রস "স্টেফিলোকোকাশ" এউরিয়াস" নামক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়। তাই ডায়রিয়া হলে দিনে কয়েকবার এই চা খেলে পায়খানার পরিমাণ,পানির মতো ভাব,পেট ব্যাথা কমিয়ে দ্রুত সুস্থ্য করে তুলবে । পিয়ারার এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণের জন্য হজম ক্রিয়া ভালো হয়,এটা ব্যাকটেরিয়া ও জীবণুর বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয় এবং এর আঁশ হজম ও নি:সরণকে উন্নত করে।
  •  ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় চীনা পিয়ারা গাছের ফল ও ঔষুধে পিয়ারা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৮৩ সালে " দি আমেরিকান জার্নাল অফ চাইনিজ মেডিসিন" এ প্রকাশিত হয় যে, পেয়ারার রসের হাইপোগ্লাইসেমিক গুণের প্রভাব ডায়াবিটিস মেলাইটাসের চিকিৎসায় খুব কার্যকর। উচ্চ আঁশ ও নিম্নগ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পিয়ারা রক্তের সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া যারা ডায়াবেটিসের উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে পিয়ারা পাতার চা ও খেতে পারেন। কচি পিয়ারা পাতা এক চা চামুচ দিয়ে ৫ মিনিট ঢেকে রেখে তারপর ছেঁকে নিয়ে পান করতে পারেন প্রতিদিন।


  • দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে: দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন "সি" সমৃদ্ধ পিয়ারা দেহকে ঠাণ্ডা,সর্দি,কাশিসহ অসংখ্য রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন একটি পিয়ারা বা এর তৈরি সালাদ,স্মোদি বা পিয়ারা পাতার চা বানিয়ে খেতে পারেন। 
  • ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: পেয়ারতে থাকা বেশ কিছু যোগিক পদার্থ যেমন:- লাইকোপিন,ভিটামিন "সি" এবং বেশ কিছু পলিফেনল থাকতে এর রয়েছে ক্যান্সার ও টিউমার বিরোধী গুণাগুণ। এগুলো শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা মুক্ত র‍্যাডিকেলকে নিরপেক্ষ করে দেহকে রক্ষা করে । ২০১০ সালে প্রকাশিত," নাটরিশান এন্ড ক্যান্সার " জার্নালে গবেষকরা বলেন, পিয়ারার রস প্রোস্টেট আকারের ছোট করে এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া নিয়মিত ভাবে পিয়ার খেলে বিভীন্ন ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করতে সাহায্য করে। 
  • দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে: পিয়ারাতে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তি উন্নত করতে,কর্নিয়াকে সুস্থ,স্বচ্ছ রাখতে ও চোখের কোষকে সুরক্ষিত রাখতে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া এর ভিটামিন সি কৌশিক নালীকে উন্নত করে রেটিনাল কোষের সঠিক কার্যক্রমে সহায্য করে। তাই খামারের মাঝে কাঁচা পিয়ারা বা এর জুস রাখলে তা দৃষ্টিশক্তির জন্য ভালো। 
  • জ্ঞানশক্তিকে উদ্দীপিত করতে: জ্ঞানশক্তকে উদ্দীপিত করতে পিয়ারার দ্বারা মস্তিস্কের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে সুস্থ রাখা সম্ভব । এই সেরা খাবারটি জ্ঞানশক্তিকে উদ্দীপিত করার সাথে মনোযোগকে তীক্ষ্ণ করে। শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকার কারণে এ ফলটি মানসিক ও মস্তিস্কের কার্যক্রমকে উন্নত করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি৩ ও বি৬ মস্তিস্কের রক্ত চলাচলকে উন্নত করতে সাহায্য করে। পিয়ারাতে থাকা পটাশিয়াম মস্তিস্কের তড়িৎ পরিবহনে সাহায্য করে যা চিন্তা শক্তি ও স্মরণশক্তিকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফলটি রাখতে ভুলবেন না । 
  • সুস্থ ত্বকের জন্য: সুস্থ ত্বকের জন্য বিশেষ করে গোলাপি পিয়ারাতে রয়েছে শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট যা কোষকে নষ্ট করার জন্য দায়ী ফ্রি র‍্যাডিকেলকে নিরপেক্ষ করে। ফ্রি র‍্যাডিকেলের জন্য সাধারণত ত্বকে বয়সের চিহ্ন যেমন:-- শুষ্ক,রুক্ষ,ভাঁজ ও অনুজ্জুলতার ছাঁপ গায়ে পড়ে। ত্বকের নমনীয়তা ও ইলাস্ট্রিসিটি রক্ষা করে পিয়ারাতে থাকা ভিটামিন সি। এছাড়া পিয়ারা ও এর পাতা সংকোচন বৈশিষ্ট্যের কারণে এটা আমাদের ত্বককে উন্নত করতে,সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির থেকে এবং ত্বকের সমস্যা যেমন: ব্রণ ও ফুসকুড়ি থেকে রক্ষা করে । তাই সুন্দর ত্বক পেতে পিয়ারা খেতে পারেন অথবা কচি পাতা বা পিয়ারা পেস্ট করে মুখে মাখতে পারেন। 
  • থাইরয়েডের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে: থাইরয়েডের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে থাইরয়েডের জন্য উপকারী  কপারের খুব ভালো উৎস হচ্ছে পিয়ারা। এটি আমদের দেহের খুব গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি যা দেহের হরমোন উৎপাদন ও শোষণকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য এবং এর পটাশিয়াম ও শক্তিশালী প্রদাহ নিরামক গুণাগুণ থাইরয়ডের কাজকে উন্নক করতে সহায়তা করে । তাই থাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যা দূর করার জন্য পিয়ার ও পিয়ারা পাতাকে খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নিতে হবে। এছাড়াও পিয়ারা দেহের শক্তি বৃদ্ধি ও ওজন কমানোর কাজকে সহজ করে দেয়। 



Ads go here

Comments