বেকার সমস্যা সমাধানে ফুলের বাগান শুরু করার ১০ টি অসাধারণ আইডিয়া

 


শহরে জীবনে নিজের একটি বাগান সবারই চাওয়া থাকে । তবে আমরা অনেকেই জানিনা কিভাবে একটি দুর্দান্ত বাগান শুরু করা যেতে পারে। অভিজ্ঞদের পরামর্শ,ইউটুব ভিডিও, ভাল অর্টিকেল খুঁজে বের করতে চায় সেরা কোন সমাধান । এরকমই ১০ টি মৌলিক কর্ম কাজের তালিকা তৈরি করেছি আমরা। এই তালিকা অনুসরণ করে খুব সহজেই এক চিলিতে বাগানের মালিক বনে যেতে পারেন আপনিও। 

পরিবারের নিরাপদ খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে নিজস্ব বাগান শুরু করা একটি অসাধারণ একটি কাজ। আপনি শুগন্ধি ফুলের বাগান করুন । কিংবা শাক-সবজি ফলের বাগান শুরু করুন ,হাত কে নোংরা করে দারুন কিছু করে ফেলতে পারেন। তবে শুরুটা কথা থেকে করবেন , এটা জানাই সবচেয়ে মুশকিলের ব্যাপার হতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি করে এই বাগনের তালিকা টি আপনি রঙিন ফুল,পুষ্টিকর ফল ও তাজা শাক-সবজি সমৃদ্ধ একটি বাগান অনায়াসেই বাগান বানিয়ে ফেলতে পারবেন। নিম্নে বাগান তৈরির ১০ টি আইডিয়া দেওয়া হলো: 

১. আপনার সুযোগকে কাজে লাগান:

আপনি কি সবজির বাগান তৈরি করতে চান! অথবা একটি ভেষজ উদ্যান ! কিংবা ফুলের বাগান ! আপনার খাবার টেবিলের জন্য যদি আপনি শাক-সবজি বা ভেষজকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন,আপনার খাদ্য তালিকার জন্যে কোনটি সবচেয়ে উপযুক্ত সেটি জানার চেষ্টা করুন। যদি মানসিক উদ্দীপনা ,রঙ এবং সুগন্ধের জন্য ফুল চাষ করতে চান,তবে সিদ্ধান্ত নিন যে বর্ষজীবি ফুলের গাছ লাগিয়ে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে ফুলের সাথে কাটাতে চান,যে গাছগুলো আপনাকে বছর বছর পরিবর্তন করতে হবে। অন্যদিকে বহুবর্ষজীবি ফুলের গাছ অনেক বছর ধরে বেঁচে থাকবে,তবে বছরের খুবই অল্প সময়ের জন্যেই ফুটবে। যেকোন পছন্দই সুন্দর,তবে এদের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে একেক রকম স্ট্রাগল। 

২. সঠিক জায়গা বাছাই করুন:

প্রায় সবজি এবং বেশির ভাগ ফুলের জন্যে প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা পূর্ণ রোদের প্রয়োজন । আপনি যেখানে বাগান করতে চাচ্ছেন,সেটির কোন স্পর্টগুলো আংশিক বা পূর্ণ সূর্যালোক দ্বারা বেষ্টিত তা নির্ধারণের জন্যে একদিন পরোটা জুড়ে পর্যবেক্ষণ করেন। আপনি ছায়াময় স্তানে টমেটো জন্মাতে পারবেন না তবে অন্যান্য অনেক গাছ ছায়াযুক্ত স্থান অনেক পছন্দ করে। সুতরাং আপনার বাগান করার স্থান যদি ছায়াযুক্ত হয়,হতাশ হওয়ার কোন কারণ নাই। আপনার উদ্ভিদের আলোর প্রবণতা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গাছের বৈশিষ্ট গুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করুণ বা আপনার স্থানীয় নার্সারিতে জিজ্ঞাসা করুন কোন গাছের জন্য কতটুকু সূর্যের আলো প্রয়োজন। 

৩. বাগনের জায়গাটি পরিষ্কার করুন:

আপনি যদি মাটিতে বাগান করতো চান,তবে এই অসাধারণ টিপসটি আপনার জন্য। যে স্থানে বাগান করার পরিকল্পনা করেছেন সেখানে ঘাসের আস্তরন যতো সম্ভব পরিষ্কার করে ফেলুন। আপনি যদি দ্রুত ফলাফল চান এগুলো কেটে ফেলুন। একটি কোদাল দিয়ে ধীরে ধীরে কুপিয়ে ঘাসের আস্তরণ তুলে ফেলুন,এবং এই ঘাসগুলো পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্যে কম্পোষ্ট করুন। 

কাগজের পত্রিকার মাধ্যমে ঘাসকে কম্পোষ্ট করা সহজ,যদিও এটি বেশি সময় নেয়। আপনার ভবিষ্যতের বাগানটিকে পাঁচটি পত্রিকার আস্তরণ দিয়ে ঢেকে ফেলুন; সংবাদপত্রে ৩ ইঞ্চি কম্পোষ্টের স্তর ছড়ুিয়ে দিন এবং রেখে দিন। কম্পোষ্ট এবং কাগজ পচে যেতে প্রায় চার মাস সময় লাগবে । শীতের মধ্যেই বাগান করার জন্যে একটি অসাধারন মাটির স্তর তৈরি হয়ে যাবে,যেখানে কোন ঘাস বা আগাছা থাকবে না এবং প্রচুর পরিমাণে জৈবসমৃদ্ধ মাটি পাবেন। 

৪. মাটির গুণগত মান বৃদ্ধি করুন:




মাটি যতো উর্বর ও ঝুরঝুরে হবে , শাকসবজি ততোই চাষ উপযোগী হবে । একই কথা অন্যান্য উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও সত্য। অন্যদিকে,আবাসিক অঞ্চলের বিশেষ ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন,বিশেষত প্রথম বার যখন বাগান করা হয়। আপনার মাটি অত্যধিক ভেজা,জৈব পুষ্টিবিহীন এবং অনুর্বর,বা খুবই অ্যাসিডিক বা খুবই ক্ষারযুক্ত হতে পারে। সমাধানটি বেশ সহজ: জৈব পদার্থ যুক্ত করুন। আপনি চাষ করার সময় বা নতুন নতুন উদ্ভিদ বেড তৈরি করা পর্যন্ত  মাটিতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি স্তর কম্পোষ্ট,ঝরে পরা পাতা,শুকনো গাছের খড় বা পুরুনো সার যুক্ত করুন। আপনি যদি চাষ না করার সিদ্ধান্ত নেন বা আগের তৈরি বিছানো দিয়ে কাজ করেন , জৈব কেঁচে ঢেলে দিলে জমির সাথে হিউমাস মিশ্রণের কাজ ওরাই করে দিবে। 

আপনার মাটি সম্পর্কে আরও জানার জন্যে , আপনার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কিংবা মৃত্তিকা উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাটি পরিক্ষা করুন। তারা কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে কাজগুলো করে থাকে । বাগানের কোন অংশ থেকে কতোটুকু মাটি নিতে হবে এবং নমুনা সংগ্রহের সর্বোত্তম সময়। অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে মাটির বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করুন । এরপর আপনি নিশ্চিত ভাবে জানতে পারবেন যে মাটিতে কি অভাব রয়েছে এবং কীভাবে এটি মেটাতে পারবেন। 

৫. মাটি ভালোভাবে প্রস্তুত করুন:

বীজ বপন বা লাগানোর থেকে নতুন বেড প্রস্তুত করতে মাটি নিয়ে কাজ করা অপরিহার্য। কেননা এটি শিকড়কে প্রয়োজনীয় জলীয় উপাদান এবং পুষ্টির নিশ্চিয়তা দিয়ে আরও সহজে মাটিতে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। দুটি পদ্ধতি রয়েছে: কর্ষণ এবং খনন। 

কর্ষণ মূলত ্‌একটি টিলার যন্ত্রের সাহায্য মাটি চাষ করার পদ্ধতি । বাংলাদেশের জন্য এরকম পদ্ধতি খুব একটা অনুসরণীয় নয়। কেননা এটি ব্যয়বহুল এবং অধিক জায়গার প্রয়োজন হয়। যখন আপনার প্রচুর পরিমাণে মাটি তৈরি কাজ করা দরকার পড়ে , সেসব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি উপযুক্ত। তবে এটি অণুজীব এবং কেঁচোকে ক্ষতি করতে পারে। সুতরাং খুব বেশি করার চেয়ে যত টুকু পারা যায় কম করায় শ্রেয়। মাটি যখন খুব বেশি ভেজা বা শুকনো হয় তখন মাটির কাঠামো এবং গাছের শিকড় ক্ষতি হতে পারে। 

ছোট বেড তৈরি করার জন্য মাটি খনন পদ্ধতি আরও কার্যকর । মাটি কেবল তখনই খনন করুন যখন এক মুঠু মাটি দলা পাকিয়ে বল করার জন্য উপযুক্ত। জৈব পদার্থ মিশ্রিত করে উপরিভাগের ৮-১২ ইঞ্চি মাটিতে আলতোভাবে ওলট-পালট করে দিন একটি ধারাল কোদাল দিয়ে। 

৬. সঠিক গাছটি বাছাই করুন:

আপনি আপনার এলাকার জলবায়ু নির্ভর জমি এবং সূর্যের আলোতে অভিযোজিত উদ্ভিদ নির্বাচন করেন। উদ্ভিদ বিষয়ক ভাল ধারণা পাওয়ার জন্যে আপনি ইন্টারনেটেই ঘোরা ঘুরি করে তথ্য সংগ্রহ করেত পারেন । এখানে নতুনদের জন্য কয়েকটি সহজ-বর্ধমান উদ্ভিদের তালিকা রয়েছে:-

  • বর্ষজীবি: ক্যালেন্ডলা , গাঁদা,সুর্যমুখী এবং জিনিয়া। 
  • বহুবর্ষজীবি:- ধনিয়া পাতা,চাইভস,লেমন বাম,নিম,থাইম,পুদিনা।
  • শাক-সবজি: শসা,লেটুস,মরিচ এবং টমেটো। 

৭. আপনার বাছাই করা গাছ রোপন করুন:

কিছু গাছ শীত সহ্য করতে পারে,তাই আপনি শরতকাল বা শীতের শেষ দিকে এসব উদ্ভিদ রোপন করতে পারেন। অন্যদিকে টমেটো এবং বেশির ভাগ বর্ষজীবি ফুল উষ্ণ তাপমাত্রা পছন্দ করে,তাই শৈত্যপ্রবাহ চলাকালীন এসব না লাগানোই ভালো । বহুবর্ষজীবি গাছ লাগানোর জন্য মার্চ এবং অক্টোবর মাস ভালো নয়। 

বাগান শুরু করার সময় অল্প বয়স্ক উদ্ভিদ কিনা সবচেয়ে ভালো,এদেরকে ট্রান্সপ্লাটও বলা হয় । উপযুক্ত নির্দেশিকার উপর ভিত্তি করে আপনার প্রস্তুত বেডে গর্ত খনন করুন । নীচ থেকে উপরের দিকে চাপ দিয়ে টব থেকে গাছটি সরান। যদি শিকড়গুলো একটি বলের মতো স্তুপ হয়ে থাকে,তবে গর্তের মধ্যে স্থাপনের আগে কাঁটা চামচ বা আঙ্গুল ব্যবহার করে সেগুলো ছাড়িয়ে দিন। শিকড়ের চারপাশে মাটি ঝুরঝুরে করুন। তারপরে পানি দিয়ে মাটি ভিজিয়ে রাখুন। 

৮. সঠিক সময়ে পানি সেচ দিন:

চারাকে কখনই শুকিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়। তাই প্রতিদিন পানি সেচ দিবেন। চারা গুলোতে শিকড় না গজানো অবধি নিয়মিত পানি সেচ দিবেন। চারা গজানোর পর অনিয়মিতভাবে সেচ দিতে হবে। আপনার বাগানে কতোবার পানি সেচ দেওয়ার প্রয়োজন তা নির্ভর করে মাটি আর্দ্রতা, এবং বৃষ্টির উপর: যদিও সপ্তাহে একবার অবশ্যই পানি দিতে হবে। বেলে মাটির চেয়ে কাদা মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। ঠাণ্ডা ও মেঘলা আবহাওয়ার চেয়ে রোদ ও বাতাসের উপস্থিতিতে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যায়। মাটি পৃষ্টের ৩-৪ ইঞ্চির নীচে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে দেখুন। যদি এটি শুকনো অনুভব করেন,তবে এটি পানি দেওয়ার উপযুক্ত সময়। আস্তে আস্তে এবং গভীরভাবে পানি দিন। এতে পানি আস্তে আস্তে মাটিতে প্রবেশ করবে। পানি শুকিয়ে যাওয়া হ্রাস করতে খুব ভোরে পানি দিন। 

৯. বাগানকে মালচিন দিয়ে সুরক্ষিত করুন:

আগাছা দুর করতে এবং মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে খড়কুটো , রান্না ঘরের জৈব বর্জ দিয়ে মাটির চারপাশে ঢেকে রাখুন। এতে আপনাকে নিয়মিত পানি দেওয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না এবং সূর্যের আলো দিয়ে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রেখে আগাছার জাতীয় উদ্ভিদ জন্মাতে দিয়ে বাধা দিবে। মালচিং করার বিভীন্ন উপদানের মধ্যে যেটি আপনার নিকট সহজ লভ্য ,সেটি ব্যবকহার করুন। একটি শবজি বাগান বা বর্ষজীবি উদ্ভিদের বাগানের জন্যে পচতে কয়েক মাস সময় নিবে কম্পোষ্ট নির্বাচন করুন। বহুবর্ষজীবিদের জন্য,দীর্ঘস্থায়ী স্থির মালচিং ব্যবহার করুন। 

১০. এভাবে চালিয়ে যেদে থাকুন:

আপনার বাগান যখন বাড়তে শুরু করবে,যেকোন নবীন বাগানিদের জন্যেই এটি আনন্দ মুহুর্ত। বাগানের কাজ চালিয়ে যেতে থাকুন যতখন না এটি পরিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে না যাবে। নিয়মিত বিরতিে পানি দেন। আগাছা বড় হওয়ার আগেই তুলে ফেলুন। শাক-সবজি বাড়ন্ত হবার সাথে সাথেই সংগ্রহ করুন। সেগুলোর গন্ধ নিয়ে পরিক্ষা করে দেখুন । যেরকমিই হোক না কেন,আপনার তৈরি বাগানের ফল। 

আপনি উদ্ভিদ রোপনের আগে যদি কম্পোষ্ট দিয়ে মাটিকে তৈনি করে নেন,তবে আপনাকে অতিরিক্ত কোনপ্রকার সার দেওয়ার প্রয়োজন হবে না । তারপরে আবার কিছু শাক-সবজির জন্যে প্রচুর পুষ্টির প্রয়োজন এবং এরা প্রতি তিন থেকে চর সপ্তাহ পর পর সারের প্রয়োজন হতে পারে। সহায়তার জন্যে বাগান নার্সারি বা কোনো উদ্ভিদবিদের পরামর্শ নিতে পারেন এবং সর্বদা সতর্কতার সাথে নির্দেশাবলি অনুসরণ করুন। 




Ads go here

Comments